সুনামগঞ্জ , রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬ , ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কিসের হাসিনা, তার চেহারা কি দেখা গেছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য ভারত সমর্থন করে না : জয়সওয়াল তাহিরপুরে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতায় দিরাই-শাল্লার উন্নয়ন করতে চাই : এমপি নাছির চৌধুরী গ্রামেগঞ্জে ১৬ ঘণ্টা লোডশেডিং, ক্ষুব্ধ গ্রাহক সব হাসপাতালে দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিতের নির্দেশ হাইকোর্টের জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত সুরমা নদীর পাড় যেন ময়লার ভাগাড় সুরমা নদীর ভাঙন অব্যাহত : অস্তিত্ব সংকটে বাউসা-কেশবপুর গ্রাম বেহাল সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল একটি কলেজের অভাবে অনিশ্চয়তায় হাওরের শত শত শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ, স্বপ্ন থামে মাধ্যমিকেই পাল্টা সংবাদ সম্মেলন রফিকুল ইসলামের প্রতিপক্ষের সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান আজ জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস সুনামগঞ্জে গ্যাস সংকট চুলা জ্বলে না, পাম্পে দীর্ঘ লাইন কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে দালাল চক্র সদর উপজেলা পরিষদের সম্প্রসারিত প্রশাসনিক ভবনের উদ্বোধন ৫ আগস্ট ঘিরে তৎপরতা চালানোর মুরোদ আওয়ামী লীগের নেই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‎সুনামগঞ্জে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা: নাদের, পলিন, রিপন-দীপঙ্করসহ ৪৮ জন আসামি পূবালী ব্যাংকের ইলেক্ট্রনিক বুথ ও সেল্ফ সার্ভিস সেন্টারের উদ্বোধন গনবিজ্ঞপ্তি--সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন

দালালের ফাঁদে নিঃস্ব অভিবাসন প্রত্যাশীরা, হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে লাখ লাখ টাকা

  • আপলোড সময় : ১০-০৪-২০২৬ ০৯:৪৭:২০ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১০-০৪-২০২৬ ০৯:৪৭:২০ পূর্বাহ্ন
দালালের ফাঁদে নিঃস্ব অভিবাসন প্রত্যাশীরা, হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে লাখ লাখ টাকা
স্টাফ রিপোর্টার :: যুক্তরাজ্যে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার অভিনব ফাঁদ পেতে একটি দালাল চক্র জগন্নাথপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের অভিবাসন প্রত্যাশী তরুণদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। প্রবাসে যাওয়ার আশায় জায়গা-জমি ও বসতভিটা বিক্রি করে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন অনেক পরিবার। দেনার দায়ে বাড়িছাড়া হওয়ার ঘটনাও ঘটছে। প্রতারকদের বিচারের পাশাপাশি টাকা উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। জানা যায়, প্রবাসী অধ্যুষিত জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর শাহ শারপাড়া ইউনিয়নের অধিকাংশ পরিবারের কেউ না কেউ ইউরোপ, আমেরিকা কিংবা মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত। ফলে এখানকার তরুণদের বড় একটি অংশ যে কোনো উপায়ে বিদেশ যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে দালাল চক্র। সৈয়দপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের কামরুল মিয়া (ছদ্মনাম) তিন সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছিলেন। স্থানীয় এক দালাল তানভীর খানের সঙ্গে পরিচয়ের পর তার জীবনে নেমে আসে বিপর্যয়। যুক্তরাজ্যে শ্রম ভিসায় পাঠানোর আশ্বাসে ২৫ লাখ টাকার চুক্তি হয়। এই টাকা জোগাড় করতে তিনি জমিজমা ও একমাত্র বসতভিটাও বিক্রি করেন। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গত বছরের অক্টোবর মাসে কয়েক ধাপে তানভীর খানের ব্যাংক হিসাবে সাড়ে ১৮ লাখ টাকা এবং নগদ সাড়ে ৬ লাখ টাকাসহ মোট ২৫ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়। পরবর্তীতে দালাল ভিসা, বিমান টিকিটসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরবরাহ করে। তবে ২৪ অক্টোবর বিমানবন্দরে গেলে ইমিগ্রেশন পুলিশ এসব কাগজপত্র জাল বলে উল্লেখ করে তার যাত্রা বাতিল করে। এরপর থেকে দালাল তানভীর খানের সঙ্গে আর যোগাযোগ সম্ভব হয়নি বলে জানান কামরুল মিয়া। তিনি বলেন, “দালালের প্রলোভনে পড়ে আমি সর্বস্ব হারিয়েছি। এখন আমি নিঃস্ব। ভিসা ও কাগজপত্র সবই জাল ছিল। আমি আদালতে মামলা করেছি। টাকা ফেরত ও প্রতারকদের বিচার চাই।” কামরুলের স্ত্রী বলেন, “বিদেশে পাঠানোর টাকা জোগাড় করতে এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছি। পাওনাদারের চাপ সামলাতে পারছি না। বসতভিটাও বিক্রি হয়ে গেছে। সন্তানদের নিয়ে কোথায় যাবো বুঝতে পারছি না।” কামরুলের ভাই জানান, অভিযুক্ত তানভীর খান এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে দালালি করে অনেক মানুষকে প্রতারণার মাধ্যমে নিঃস্ব করেছেন। তারা আইনের আশ্রয় নিয়েছেন এবং বিচার প্রত্যাশা করছেন। এমন অভিযোগ শুধু কামরুলের নয়। একই এলাকার আরও অনেক পরিবার একই চক্রের প্রতারণার শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের অভিযোগ, তানভীর খান, তার চাচাতো ভাই মুহিব উদ্দিন খান ও মালেক খানসহ একটি চক্র সিলেট শহরে বেনামী ট্রাভেল এজেন্সির আড়ালে এই প্রতারণা চালাচ্ছে। সৈয়দপুর গ্রামের আরেক ভুক্তভোগী সিরাজ আলী বলেন, “আমার ছেলেকে লন্ডনে পাঠানোর কথা বলে ৩৬ লাখ টাকা নিয়েছে। এই টাকা জোগাড় করতে জমিজমা বিক্রি করেছি। এখন আমি নিঃস্ব। টাকা ফেরত চাইলে আমাকে মারধরও করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সালিসে চেক দেওয়া হলেও ব্যাংকে কোনো টাকা পাওয়া যায়নি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রভাবশালী এই দালাল চক্র দীর্ঘদিন ধরে অপরাধ চালিয়ে গেলেও তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও ক্ষতিগ্রস্তদের টাকা ফেরতের দাবি জানান তারা। স্থানীয় সমাজসেবী আব্দুল গফফার বলেন, “তানভীর খান ও তার সহযোগীরা এলাকার চিহ্নিত দালাল। বহু মানুষকে প্রতারণা করেছে। এখনই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।” এ বিষয়ে অভিযুক্ত তানভীর খানের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রতিবেদককে মামলার হুমকি দেন। জেলা পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন বলেন, “দালাল চক্রের বিরুদ্ধে আমরা সতর্ক রয়েছি। যেসব মামলা হয়েছে সেগুলো গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা হবে।” এদিকে, প্রতারণার ঘটনায় ভুক্তভোগী কামরুল মিয়া ইতোমধ্যে তানভীর খানসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স